রক্তজবা: ভালোবাসা ও প্রতিশোধের গল্প
লেখক: sazzad hossain
রোমান্স ও অ্যাকশন মিশ্রিত একটি হৃদয়ছোঁয়া কাহিনি
প্রথম পরিচয়
ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায়, একটি চায়ের দোকানে প্রথম দেখা তামান্না ও আরিয়ানের। দুই ভিন্ন জগতের মানুষ — তামান্না একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট, আর আরিয়ান... একজন নাম না জানা রক্তের মতোই গরম রাগী যুবক। শহরের অন্ধকার গলির ভিতরে তার পরিচয় — ‘গায়েবি ছেলে’ নামে। কেউ জানে না কোথা থেকে আসে, কোথায় যায়। কিন্তু অন্যায় দেখলে সে থামে না।
তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল এক রাতে, যখন তামান্না একটি অসুস্থ পথশিশুকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ছিনতাইকারীরা তার পথ আটকালে, আরিয়ান একাই ৩ জনকে কাবু করে দিল। তামান্না বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।
– "তুমি কে?"
– "আমি? একজন পথচারী, কিন্তু অন্যায়ের পথে হাঁটি না।"
বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা
ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল। তামান্না বুঝতে পারল, এই কঠিন চেহারার যুবকের ভিতর লুকিয়ে আছে এক দগ্ধ হৃদয়। আরিয়ান সবসময় এড়িয়ে যেত তার অতীত। কিন্তু তামান্না জানত, এই ছেলেকে ভালোবাসা মানে অন্ধকারে আলো খোঁজা।
একদিন রাতে তামান্না আর আরিয়ান বসেছিল বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে। তামান্না বলল – "তোমার চোখে সবসময় একটা বিষণ্ণতা দেখি। বলবে না আমাকে?"
আরিয়ান দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলল – "তোমার চোখে যদি সত্যি ভালোবাসা থাকে, তাহলে শুনো…"
– "ছোটবেলায় বাবাকে খুন হতে দেখেছি চোখের সামনে। খুনিরা ছিল এক প্রভাবশালী মাফিয়া গ্রুপের। পুলিশ কিছুই করেনি। তখনই শপথ করেছিলাম, আইন যদি ন্যায্যতা না দেয়, আমি নিজেই ন্যায় ফিরিয়ে আনবো।"
তামান্নার চোখ ভিজে গেল। সে আরিয়ানের হাত ধরল – "তুমি একা নও আর। আমি আছি।"
অন্ধকারে ডুবে যাওয়া
তাদের ভালোবাসা গভীর হতে লাগল, কিন্তু শত্রুরাও ঘনিয়ে এলো। সেই পুরনো মাফিয়া ‘জুনায়েদ চৌধুরী’ ফিরে এসেছে বাংলাদেশে। তার টার্গেট এবার আরিয়ান, কারণ সে জানে এই ছেলেই তার রাজত্বের জন্য হুমকি।
একদিন আরিয়ানকে লক্ষ্য করে গুলি চলে। গুলিতে আহত হয় তামান্না। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আরিয়ান পাগলের মতো ছুটে বেড়ায়, খুঁজতে থাকে কাদের মাধ্যমে আঘাত এসেছে।
– "তামান্না আমার ভালোবাসা, তার রক্তে আমার প্রতিশোধের আগুন জ্বলে উঠেছে।"
প্রতিশোধের শুরু
আরিয়ান এবার প্রস্তুতি নেয়। নিজের দল তৈরি করে – ‘রক্তজবা’ নামে এক গুপ্ত টিম। তাদের কাজ – মাফিয়া নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা। রাতের অন্ধকারে তারা একে একে জুনায়েদের লোকজনকে নিস্তব্ধ করে দিতে থাকে।
পুলিশও চাপে পড়ে, তবে আরিয়ান কখনো নিজের পরিচয় দেয় না। একদিন সে মুখোমুখি হয় জুনায়েদের — – "তুই আবার এসেছিস! এবার তোকে মাটি চুষে খাবে!" – "এই মাটিতেই তো আমার বাবার রক্ত মিশে আছে। তুই এবার আমার রক্তের জবাব পাবি।"
এক ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ হয়, যেখানে আরিয়ান একাই ১০-১২ জনের সঙ্গে লড়াই করে। গুলি, বিস্ফোরণ, পেছনে তামান্নার মুখ — সব মিলিয়ে এক ভয়ংকর দৃশ্য।
শেষ লড়াই
শেষ মুহূর্তে জুনায়েদ আবার পালিয়ে যায়। এবার তামান্নাই আরিয়ানকে উৎসাহ দেয় – "তোমার হাতেই বিচার হবে। আমি তোমার পাশে আছি।"
অবশেষে জুনায়েদের গোপন আস্তানা খুঁজে বের করে ‘রক্তজবা’ টিম। আরিয়ান প্রবেশ করে, আর একে একে শেষ করে দেয় সব মাফিয়াদের।
জুনায়েদকে বন্দুকের নলের মুখে এনে দাঁড় করায়। – "এটাই শেষ সুযোগ। বাবার জন্য, দেশের জন্য, তামান্নার জন্য।" আর একটা গুলি, সব শেষ।
নতুন সূর্যোদয়
সব ঝড় থেমে গেলে, আকাশে সূর্য ওঠে। তামান্না এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আরিয়ান সব কিছু ছেড়ে একটি সংস্থা তৈরি করে – যেখানে এতিম ও নির্যাতিত শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। নাম – “আশ্রয়”।
তামান্না ও আরিয়ান বিয়ে করে, এক নতুন জীবন শুরু করে। তাদের ভালোবাসা ছিল রক্তের দাগ মুছে নতুন জীবন গড়ার প্রতীক।
তাদের গল্প আজও শহরের অলিতে-গলিতে বাতাসের মতো বয়ে বেড়ায়।
👉 পাঠকের জন্য প্রশ্ন:
আপনি কি মনে করেন, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ভালোবাসা একটি শক্তি হতে পারে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান!
0 মন্তব্যসমূহ